1. admin@cumillardurbin.com : admin :
শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:২১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
RANGS ELECTRONICS LTD-এর ১২ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলার প্রধান আসামী শুভ কুমিল্লা জেলা পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার ঢাকা কাঁপাতে আসছে বিটিএস ব্র্যান্ড সাংবাদিকতায় অনন্য ভূমিকা রাখায় সম্মাননা পেলেন আরটিভির সাংবাদিক নাইমুর রহমান শান্ত মালেশিয়ায় বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির আয়োজনে কুমিল্লার নামে বিভাগ বাস্তবায়নের লক্ষে মতবিনিময় সভা গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন ডাঃ তাহসিন বাহার সূচনা কুমিল্লা-৩৫০০” এর সিলেট ও সুনামগঞ্জে ত্রান-সাহায্য প্রদান মহানবীকে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে লাকসামে বিক্ষোভ মিছিল। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ৭১ টিভির গাড়ি ভাঙ্গচুর কুমিল্লাস্থ বৃহত্তর লাকসাম-মনোহরগঞ্জ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পুনঃমিলনী-২০২২ অনুষ্ঠিত কুসিক নির্বাচনে বিজয়ী হলে ঘুষ না নেওয়া সহ রিফাতের ১১ দফার অঙ্গিকার।

নোয়াখালীর দুঃখ লক্কড়ঝক্কড় রেল কোচ আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস

  • আপডেট সময় : সোমবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২২
  • ১৬৪ বার পঠিত

জামাল হোসাইন ভূঁইয়া।
নোয়াখালীর দুঃখ উপকূল এক্সপ্রেস। উপকূল এক্সপ্রেস নোয়াখালী রেলওয়ে স্টেশন হতে ঢাকা পর্যন্ত চলাচলকারী একটি আন্তঃনগর ট্রেন। এটি ১৭ই জানুয়ারি, ১৯৮৬ সালে উদ্বোধন হয়। সেই ১৯৮৬ সাল থেকে একই রকম কোচ দিয়ে চলছে অধ্যাবদি অথচ উপকূলের আরও অনেক পরে চালু হওয়া ট্রেনের কোচ পরিবর্তন হয়েছে এবং হতে চলেছে, কিন্তু উপকূলের হচ্ছে না। এতে বোঝা যাচ্ছে উপকূল,নোয়াখালীর মানুষ তথা নোয়াখালী-ঢাকা ট্রেন রুটে যাতায়াতকারী সমগ্র মানুষের সঙ্গে কী পরিমাণ বৈষম্য করছে রেলওয়ে।

দীর্ঘদিন ধরে লক্কড়ঝক্কড় রেল কোচ নিয়ে চলছে উপকূল এক্সপ্রেস। রেলের আধুনিকায়নের যুগে আন্তনগরগুলোতে নতুন লাল-সবুজ ও সাদা কোচ যুক্ত হলেও উপকূলের এখনো সেই সৌভাগ্য হয়নি। আশা করা যায়, এর পরের লটে যেগুলো আসবে, সেখান থেকে অবহেলিত উপকূল এক্সপ্রেস লাল–সবুজ কোচ পাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এক এক করে অনেক লটই এসেছিল, কিন্তু উপকূলের ভাগ্যে জোটেনি একটাও।

এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উপকূল-২–এর জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন। বর্তমান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময়ে উপকূল-২ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ঢাকা-নোয়াখালী রুটে প্রতিদিন দুই শতাধিক বাস আপ–ডাউন করে, আট হাজার মানুষ ঢাকা-নোয়াখালী যাতায়াত করে প্রতিদিন।

নোয়াখালী-ঢাকা রেলপথে ভোগান্তির আরেক নাম উপকূল এক্সপ্রেস

আন্ত:নগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। আন্ত:নগর এক্সপ্রেস বলা হলেও নোয়াখালী থেকে ঢাকা পর্য্যন্ত ১১/১২ টি রেল স্টেশনে যাত্রাবিরতি, রেল ক্রসিং এবং পথিমধ্যে ট্রেনের গতি কমিয়ে যাত্রী উঠানামা নিত্যকার বিষয়। এছাড়া ট্রেনের প্রতিটি বগিতে ময়লা আবর্জনা, তেলাপোকা, ছারপোকা এবং ইঁদুর দৌড় লক্ষণীয়। এসব কারণে উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন কখনো নিদ্দিষ্ট সময় তার গন্তব্যস্থলে পৌছতে পারছেনা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল ঢাকা থেকে মঙ্গলবার ও নোয়াখালী থেকে বুধবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে। অনান্য দিন নোয়াখালী থেকে সকাল ৬ টা এবং ঢাকা থেকে বিকাল ৩-২০ মি. গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ১৪ / ১৫টি বগি সমন্বয়ে উপকূল এক্সপ্রেসের ১টি এসি বগি, ১টি প্রথম শ্রেণীর কেবিন, ২টি চেয়ারকোচ এবং ১১/১২টি শোভন বগি থাকে। এতে করে প্রায় ৮/৯ শত যাত্রী বহন করা হয় বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে। নোয়াখালী ঢাকা রেলপথে এমনিতেই যাত্রীদের প্রচন্ড ভিড় থাকে। বিশেষ করে এতদ্বঞ্চলের যাত্রীরা সড়কের পরিবর্তে রেলপথকে অধিক নিরাপদ মনে করে থাকে। উপকূল এক্সপ্রেসে আসন স্বল্পতার কারণে প্রতিদিন শত শত যাত্রী দাঁড়িয়ে পথ অতিক্রম করছে।

এদিকে নোয়াখালীর কয়েকজন পেশাজীবীর সাথে কথা বলে জানাযায় যে, উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে সেবার মানউন্নয়ণ ও যাবতীয় অব্যবস্থাপনা দূর করা হলে এবং নোয়াখালী-ঢাকা ট্রেন রুটে উপকূল-২ চালু হলে অত্রঅঞ্চলের পেশাজিবী মানুষের জীবনধারার মানউন্নয়ন হবে। অনেক সময়ের অপচয় রোধ হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী শ্রেণীর মানুষও অনেক উপকৃত হবে।

উল্লেখ্য, নোয়াখালী ঢাকা সড়ক পথে যানবাহনের অত্যাধিক চাপ,বাস কোম্পানিগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। দুর্ঘটনা ও যানজটসহ নানাবিধ সমস্যার কারনে নোয়াখালী অঞ্চলের অধিবাসীরা রেল ভ্রমণকে অধিক নিরাপদ মনে করে। ফলে নোয়াখালী-ঢাকা রুটের জন্য বরাদ্দকৃত একমাত্র উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে সব সময় যাত্রীদের প্রচন্ড ভিড় লেগেই থাকে। এ সমস্যা দূরীকরণে নোয়াখালী-ঢাকা রুটে আরো একটি ট্রেন বৃদ্ধি করা গণদাবীতে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা – চট্রগ্রাম, ঢাকা – সিলেট, ঢাকা – রাজশাহীসহ বিভিন্ন রুটে দ্রতগামী অত্যাধুনিক ট্রেন চালু করলেও নোয়াখালী রুটে যাত্রীদের অত্যাধিক চাহিদাকে কখনো গুরুত্ব দিচ্ছেনা। উপরোন্ত নানাবিধ সমস্যা জর্জরিত আন্ত:নগর উপকূল এক্সপ্রেস কখনো নির্দ্দিষ্ট সময় গন্তব্যে পৌছতে পারেনা। জানা গেছে, সকাল ৬টায় নোয়াখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল ১১-৫০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌছার সিডিউল টাইম থাকলেও এ যাবত নিদ্দিষ্ট সময় পৌছার রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যাবেনা। তেমনিভাবে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বিকাল ৩-২০ মি. নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ট্রেন ২১-৫০ মি. নিদ্দিষ্ট স্থানে কখনো পৌছা সম্ভব হয়নি। এ রকম পরিস্থিতিতে আরও একটি আন্তনগর ঢাকা-নোয়াখালী রুটে দেওয়া উচিত। সে ক্ষেত্রে ঢাকা থেকে সকাল ৭-৮টার ভেতর ছাড়লে আর নোয়াখালী থেকে বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৪টার ভেতর ছাড়লে উপকূল-২ হাউসফুল হবে প্রতিদিন নিঃসন্দেহে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ভ্রমণ ও রেলওয়ের আয় বাড়ানোর জন্য উপকূল-২ অনতিবিলম্বে চালু করা হোক। সেই সঙ্গে দ্রুত বর্তমান উপকূলকে লাল–সবুজের কোচ অথবা সাদা কোচে উন্নীত করা হলে হাজার হাজার রেলযাত্রীর দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং নোয়াখালীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ কুমিল্লার দূরবীন.কম । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা ছবি ভিডিও অনুমতি ছাড়া কপি করা বে-আইনি। সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদে কুমিল্লার দূরবীণের সাথেই থাকুন।
Theme Customized By Theme Park BD