1. admin@cumillardurbin.com : admin :
শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
RANGS ELECTRONICS LTD-এর ১২ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলার প্রধান আসামী শুভ কুমিল্লা জেলা পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার ঢাকা কাঁপাতে আসছে বিটিএস ব্র্যান্ড সাংবাদিকতায় অনন্য ভূমিকা রাখায় সম্মাননা পেলেন আরটিভির সাংবাদিক নাইমুর রহমান শান্ত মালেশিয়ায় বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির আয়োজনে কুমিল্লার নামে বিভাগ বাস্তবায়নের লক্ষে মতবিনিময় সভা গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন ডাঃ তাহসিন বাহার সূচনা কুমিল্লা-৩৫০০” এর সিলেট ও সুনামগঞ্জে ত্রান-সাহায্য প্রদান মহানবীকে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে লাকসামে বিক্ষোভ মিছিল। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ৭১ টিভির গাড়ি ভাঙ্গচুর কুমিল্লাস্থ বৃহত্তর লাকসাম-মনোহরগঞ্জ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পুনঃমিলনী-২০২২ অনুষ্ঠিত কুসিক নির্বাচনে বিজয়ী হলে ঘুষ না নেওয়া সহ রিফাতের ১১ দফার অঙ্গিকার।

নুসরাত হত্যার দাবিতে পূবালী চত্বরে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

  • আপডেট সময় : রবিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২২
  • ১৮৬ বার পঠিত

সাইমুম ইসলাম অপি।

গতকাল কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী নুসরাত হত্যার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের মেধাবী ছাত্রী নুসরাত জাহান মীমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দাবিতে নগরীর পূবালী চত্বরে এ মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক ও অনার্স শাখার শিক্ষার্থীরা। সল্প বয়সে একজন মেধাবী বন্ধুকে হারিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেন তার সহপাঠীরা।

 

মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করেন, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের কার্যকরী কমিটির সদস্য রাকিবুল ইসলাম যোবায়ের, আশিকুর রহমান জুয়েল, আব্দুর রহমান বাবু, জামাল হোসাইন, ইংরেজি বিভাগের সাধারণ সম্পাদক তাওহীদ আজিজ, উচ্চমাধ্যমিক শাখার ছাত্রনেতা সিমান্ত, নুসরাতের পরিবারের সদস্য, প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদকর্মী সহ কলেজের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে ইংরেজি বিভাগের সাধারণ সম্পাদক তাওহীদ আজিজ বলেন, যারা আমার বোনকে হত্যা করেছে তারা এখোনো বাহিরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সঠিকভাবে তদন্ত করে হত্যাকারীদের বিচার না করা হলে সামনে আমরা আরোও কঠোর আন্দলনের ডাক দিবো। আমরা আমাদের বোন তনুর জন্যও রাজপথে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছি। যারা আমার বোনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখে হত্যা করেছে সেই চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে আমরা সঙ্ঘবদ্ধ আছি। আমরা প্রশাসনের কাছে সঠিক তদন্তের জন্য বিচার দাবি করছি।

 

ভিক্টোরিয়া কলেজের কার্যকরী সদস্য আব্দুর রহমান বাবু বলেন, নুসরাত আমার বোন। আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। যারা আমাদের বোনকে হত্যা করেছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হউক। আমার বোনের হত্যাকারীদের বিচার না করা হলে পুরা কুমিল্লা অচল হয়ে যাবে। সঠিক বিচার না হলে এই কুমিল্লার মানুষ খুব শীগ্রই কুমিল্লার মাঠে নেমে পড়বে।

ভিক্টোরিয়া কলেজের কার্যকরী সদস্য রাকিবুল ইসলাম যোবায়ের, হত্যাকারীর সঠিক বিচার না হলে কিভাবে সারা বাংলাদেশ অচল করে দিতে হয় আমার বোন তনুর হত্যার সময় আমরা তা বুঝিয়ে দিয়েছি। আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আর যতদিন পর্যন্ত হত্যাকারীদের বিচার না হবে ততোদিন পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

ভিক্টোরিয়া কলেজের কার্যকরী সদস্য জামাল হোসাইন ভুইয়া বলেন, রোদ এবং গরমকে উপেক্ষা করে আমরা এখানে এসেছি আমার বোন নুসরাতের হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানাতে। আমার বোনকে যৌতুকের জন্য পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রশাসন আমাদের এবং জনগনের বন্ধু। আপনারা আমাদের বোনের হত্যাকারীদের শাস্তি প্রদানে আমাদের, নুসরাতের পরিবার এবং আদালতকে সহায়তা করেন। নুসরাতের লাশকে ময়নাতদন্ত না করে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। এখনোও নুসরাতের হত্যাকারীরা নুসরাতের মাকে হুমকি ধমকি দেয়। সকল অপশক্তিকে আমরা এই মানববন্ধন থেকে হুশিয়ার করতে চাই আর যদি নুসরাতের মাকে হুমকি ধমকি দেওয়া হয় তাহলে আমরা ছাত্রসমাজ কি করতে পারি তা সারা বাংলাদেশ দেখবে।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে নুসরাতের আম্মা তার সন্তানের হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানান। তিনি বলেন, আমার সন্তানকে কবরে পুতে ফেলে খুনিরা বাহিরে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমার মত আর কোনো মা যেন তার সন্তানকে এভাবে হারাতে না হয় তাই প্রশাসনের কাছে আমি সঠিক বিচার চাই।

নুসরাতের খালাম্মা বলেন, পাগল বলে পরিকল্পিতভাবে কেন আমাদের সন্তানকে হত্যা করা হলো তার জবাব চাই। আমাদের সন্তানের হত্যাকারীর যদি বিচার না হয় তাহলে আমাদের মেয়ের সাথে আমাদেরকেও মেরে ফেলুক। পাগল কিভাবে প্রত্যেক সেন্টার পরিক্ষা উত্তীর্ণ হয়ে অনার্স এ ভর্তি হলো? কিভাবে সন্তানসহ স্বামীর সংসার করছে? আমরা সঠিক বিচার চাই।

 

উল্লেখ্য, ১০ লক্ষ টাকা দেনমোহরে বিয়ে ১ বছর ৩ মাস ৯ দিনের মাথায় যৌতুকের টাকার জন্য নুসরাতকে হত্যা। বলছি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নুসরাত জাহান মীমের কথা। ২০২১ এর ৮ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের বাতিসা গ্রামের মহসিন চৌধুরীর একমাত্র মেয়ে নুসরাত জাহান মীমকে গুনবতী ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের সহিদ উল্লাহ্ ভূঁইয়ার ছেলে মোহাম্মদ উল্লাহ্ ভূঁইয়া রিয়াদ এর নিকট শরীয়ত সম্মতভাবে ১০ লক্ষ টাকা দেনমোহরে সামাজিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করা হয়। বিয়ের সময় নুসরাতের পরিবার বর পক্ষকে স্বর্ণালঙ্কার, ঘরের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রসহ প্রায় চার লক্ষ টাকার জিনিসপত্র দিয়েছে।

বিয়ের পর কিছুদিন ভালোভাবেই সংসার করছিলেন নুসরাত। কিন্তু বিয়ের ৬ মাসের মাথায় তার সংসারে শুরু হয় অশান্তি। কখনো স্বামীর ব্যবসার উন্নতি কখনো শশুর বাড়ির লোকজনের চাপে কয়েকবার বাবার বাড়ি থেকে নানান অজুহাতে ৩ লক্ষ টাকা এনে দেয় স্বামীকে। এক পর্যায়ে যৌতুকের টাকা না আনতে পারায় নুসরাতের স্বামী ও শশুর বাড়ির লোকজন তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। স্বামী রিয়াদসহ তার পরিবারের লোকজন নুসরাতকে মারধরসহ শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। নির্যাতনে নুসরাতের গলা, হাতের তালুসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের নীলাফুলা জখম ও ক্ষতের চিহৃ দেখা যায়। নির্যাতন অতিমাত্রা হওয়ায় অবস্থা খারাপ দেখে নুসরাতকে তারা গত শনিবার (১৬ এপ্রিল) হত্যা করে শয়ন কক্ষের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখে ।
এভাবেই যৌতুক লোভী রাগব বোয়ালের কাছে প্রাণ যায় নুসরাতের।

মৃত্যুর পর স্বামী রিয়াদ নুসরাতের পরিবারকে জানায় একটি সাজানো গল্প। সে নুসরাতের বাবাকে মুঠোফোনে কল করে বলে নুসরাতের শারীরিক অবস্থা ভালো না। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে হবে। খবর পেয়ে নুসরাতের বাবা-মা সেখানে ছুটে গিয়ে নুসরাতের নিথর দেহ ফ্যানের সাথে ঝুলে থাকতে দেখেন। পরে নুসরাতের শ্বশুর সহিদ উল্লাহ্ সু-কৌশলে তার বাবার কাছ থেকে দু’টি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে নেয়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরীর পর লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে তখন নুসরাতের মা জাহান আরা বলেন, ‘আমার মেয়েকে তারা যৌতুকের টাকার জন্য পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমাদের কাছ থেকে দু’টি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তারা লাশের ময়নাতদন্ত না করিয়ে দাফন করে দেয়। লাশের ময়নাতদন্ত ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই’।
মামলার প্রধান আসামী ও নিহত নুসরাতের স্বামী মোহাম্মদ উল্লাহ্ ভূঁইয়া রিয়াদ বলেন, ‘নুসরাতের মানসিক সমস্যা ছিল। এ কারণেই সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। তার পরিবারের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতেই লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে’।

 

এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। সুরতহাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই প্রতীয়মান হয়। উভয়পক্ষের সম্মতিতে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে’।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ কুমিল্লার দূরবীন.কম । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা ছবি ভিডিও অনুমতি ছাড়া কপি করা বে-আইনি। সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদে কুমিল্লার দূরবীণের সাথেই থাকুন।
Theme Customized By Theme Park BD